প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 19, 2026 ইং
লামায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ: ঘটনার নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের দুই দাবি

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি ৬ নং ওয়ার্ডে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী হালিমা বেগমকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মোঃ বাতেন প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কৃষিজমিতে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরেই ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি মূলত দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও কৃষিজমি ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে হালিমা বেগমকে উদ্দেশ্য করে মারধর বা হত্যাচেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।
প্রতিবাদলিপিতে মোঃ বাতেন দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি হালিমা বেগমকে মারধর করেননি। তাঁর ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে তাঁর হাত ভেঙে যায় এবং ঘটনার কয়েকদিন আগেই হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর পক্ষে কাউকে মারধর করা সম্ভব ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাতেনের অভিযোগ, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনার একটি পক্ষের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ঘটনার পর দুই পরিবারের দুজন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা হলেন—সালেহা বেগম, পিতা আব্দুল সুবাহান এবং হালিমা বেগম, স্বামী মো. হেলাল উদ্দিন। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
তবে কার কী ধরনের আঘাত লেগেছে, আঘাতের কারণ কী এবং ঘটনার সময় কে বা কারা হামলায় জড়িত ছিলেন—এসব বিষয়ে চিকিৎসা নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হালিমা বেগমের ওপর হামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর চিকিৎসা প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে পাওয়া দুই পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য থাকায় অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা সনদ, থানায় করা অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে, মোঃ বাতেন তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Parbatta Alo-পার্বত্য আলো